Search This Blog

Showing posts with label পুলিশ. Show all posts
Showing posts with label পুলিশ. Show all posts

Thursday, July 2, 2015

পুলিশে এসআই পদে নিয়োগ যোগ্যতা

মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর হতে হবে

পুলিশে এসআই পদে নিয়োগ প্রার্থীর যোগ্যতা

প্রার্থীকে অবিবাহিত ও বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সাধারণ ও অন্যান্য কোটায় প্রার্থীর বয়স মাধ্যমিক বা সমমানের সনদ অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে হতে হবে ১৯ বছর থেকে ২৭ বছর। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তানের ক্ষেত্রে বয়স ২৭ বছরই হতে হবে। বিস্তারিত জানতে বিজ্ঞপ্তিটি নিচের লিংকে পাওয়া যাবে-

পুলিশে এসআই পদে নিয়োগ

শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা

অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক পাস ও কম্পিউটারে অভিজ্ঞ হতে হবে। পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি ও বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। পুরুষ-নারী সবার ক্ষেত্রে উচ্চতা ও বয়সের সঙ্গে ওজন অনুমোদিত পরিমাপক হতে হবে।

কবে কোন পরীক্ষা

প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা হবে ২৭ জুলাই সকাল ৯টায়। ঢাকা রেঞ্জ বা বিভাগের পরীক্ষা হবে উত্তরায় এপিবিএন পুলিশ লাইনস, চট্টগ্রাম বিভাগে সিএমপি পুলিশ লাইনস, রাজশাহীতে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইনস, রংপুরে রংপুর জেলা পুলিশ লাইনস, খুলনায় আরআরএফ পুলিশ লাইনস, বরিশালে জেলা পুলিশ লাইনস ও সিলেট বিভাগের সিলেট জেলা পুলিশ লাইনসে। প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন ফরম পূরণ করে নিজ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে তিন ধাপে। মনস্তত্ত্বের পরীক্ষা হবে ৭ আগস্ট বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ৮ আগস্ট ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন এবং ৯ আগস্ট সাধারণ জ্ঞান ও পাটি গণিত পরীক্ষা হবে। প্রতিটি পরীক্ষার সময় বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

http://epaperbangladesh.blogspot.com/

নিয়োগ প্রক্রিয়া

শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মনস্তত্ত্ব ও লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এই দুটি পরীক্ষায় যারা নির্বাচিত হবেন, তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলেও সব শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশবাহিনীতে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হবে। রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছর সফল প্রশিক্ষণ শেষে পুলিশবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন তারা। প্রশিক্ষণকালে থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রতি মাসে ৭০০ টাকা হারে প্রত্যেককে মাসিক ভাতা দেয়া হবে। কাজে যোগ দেয়ার পর একজন এসআই নবম জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাবেন ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা।

লিখিত পরীক্ষার বিষয়

২২৫ নম্বরের তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৭ আগস্ট বেলা ৩টায় আধাঘণ্টার মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৮ আগস্ট বেলা ২টা থেকে ৩ ঘণ্টার ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনের পরীক্ষা নেয়া হবে। ৯ আগস্ট সাধারণ জ্ঞান ও পাটিগণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সময় মতো মৌখিক পরীক্ষার সময় জানিয়ে দেয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় একইভাবে প্রার্থীদের জানানো হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে।

প্রথমেই শারীরিক পরীক্ষা :

শারীরিক মাপ পরীক্ষার শুরুতেই বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা অনুযায়ী উচ্চতা, বুকের প্রস্থ, বডি মাস ইনডেক্স অনুযায়ী বয়সের সঙ্গে ওজনের সামঞ্জস্য ঠিক আছে কি না দেখা হয়। সব ঠিক থাকলে পরের ধাপে ফিটনেস যাচাই পরীক্ষায় দৌড়, লং জাম্প বা রক ল্যান্ডিংয়ে অংশ নিতে হতে পারে।

শারীরিক মাপ পরীক্ষার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেয়া চারিত্র্যিক সনদের মূলকপি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরের দেয়া স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদের মূলকপি, প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র, না থাকলে বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপি, প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়িত সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, কমপক্ষে তিন সপ্তাহের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদের মূলকপি, চাকরিরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র, কোটায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কোটার সনদের মূলকপি ও তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র সঙ্গে আনতে হবে।

শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ওই পরীক্ষার দিনই সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজির কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ৩০০ টাকা পরীক্ষার ফি যে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ডিআইজির কার্যালয়ে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে পরীক্ষায় স্থান জানিয়ে প্রার্থীদের কাছে লিখিত প্রবেশপত্র সময় মতো পাঠানো হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া এই পরীক্ষায় অংশ নেয়া যাবে না।

লিখিত পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

এসআই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫০ নম্বরের। ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনে থাকে ১০০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান ও পাটি গণিতে ১০০ নম্বর এবং মনস্তত্ত্বে ২৫ নম্ব^রের পরীক্ষা নেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট পড়াশোনা :

ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনে ১০০ নম্বরের মধ্যে ইংরেজিতে ৫০ নম্বর এবং বাকি ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনে। ইংরেজি অংশে সাধারণত একটি ১৫ নম্বরের Essa থাকে। Phrase and Idioms দেয়া থাকে। এগুলো দিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করতে হয়। এখানে সাধারণত ১০ নম্বর থাকে।
ইংরেজিতে একটি Letter লিখতে হয়, এতেও ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। আসতে পারে 'Write a letter to your pen-friend about narrating the Liberation War of Bangladesh'. এ ছাড়া ৫ নম্বরের Fill in the blanks থাকে। ১০ নম্বরের Translation থাকে। বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন অংশে ১৫ নম্বরের একটি বাংলা রচনা লিখতে হয়। ভাব সম্প্রসারণে থাকে ১০ নম্বর। বাগধারা দিয়ে বাক্য তৈরি করতে বলা হয়, এতে থাকে ১০ নম্বর। এক কথায় প্রকাশেও থাকে ৫ নম্বর। বঙ্গানুবাদে বরাদ্দ থাকে ১০ নম্বর।

গণিত অংশে শুধু পাটি গণিত থেকে প্রশ্ন হয়। প্রশ্ন আসে সরল, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম থেকে।

সাধারণ জ্ঞান অংশে সাধারণত আলোচিত ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের সংবিধান, উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব, উল্লেখযোগ্য স্থাপনা, ঐতিহাসিক স্থান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, রাজনৈতিক ও সাম্প্রতিক বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকে। এ অংশে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের পাশাপাশি টিকা ও অনেক ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক প্রশ্নও আসে। এ অংশে অনেক সময় বিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রশ্নও হয়ে থাকে।

মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা

সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য শব্দ বা সংখ্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার সমাধান, সম্পর্ক নির্ণয়, গাণিতিক যুক্তি অভীক্ষা, ভারবাল রিজনিং, সাধারণ জ্ঞান (পূর্ণ রূপ, সঠিক উত্তর, সংক্ষিপ্ত টিকা) থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এ সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হলে বারবার চর্চা করতে হবে।
source daynik jugantor : 02-07-2015

Friday, June 26, 2015

পুলিশে একই পদে দুই রকমের বেতন

বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন পুলিশ সদস্যরা.....................
পুলিশে একই পদে দুই রকমের বেতন

অনেকটা ঘটা করে ২০১২ সালের ৩০ জুলাই পুলিশের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) পদকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে এবং উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) ও সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় থেকে একধাপ ওপরে তুলে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ইন্সপেক্টরদের বেতন দশম গ্রেড থেকে নবম এবং এসআই ও সার্জেন্টদের বেতন ১১তম থেকে দশম গ্রেডে আসে। তারও আড়াই বছর পর একধাপ নামিয়ে আগের গ্রেড নির্ধারণ করে ইন্সপেক্টর এবং এসআই ও সার্জেন্টদের নতুন পদ সৃজনে অনুমোদন দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন পুলিশ সদস্যরা।

২০১২ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে মানমর্যাদার সঙ্গে ওপরের ধাপে বেতন-ভাতা নিশ্চিত হওয়ার খবরে থানায় থানায় মিষ্টি বিতরণ হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ইন্সপেক্টর আর এসআই ও সার্জেন্টরা উচ্চধাপে বেতন-ভাতা, মানমর্যাদা পেলেও এক বাক্যের ওই প্রজ্ঞাপন মোটেও স্বস্তি দিচ্ছিল না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে। কারণ নিম্নতর পদে থাকা পুলিশ সদস্যদের কিভাবে ওপরের পদে নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কোনো কিছুরই উল্লেখ নেই। এ অবস্থায় নতুন করে পুলিশের পদ সৃজন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্সপেক্টর, এসআই ও সার্জেন্টদের বেতন ফের একধাপ নিচে নামিয়ে এনে তাতে অনুমোদন দিচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ইন্সপেক্টর, এসআই ও সার্জেন্টদের বেতন-ভাতা অপরিবর্তিত রেখে শুধু তাঁদের পদমর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। তাই এত দিন তাঁরা উচ্চতর গ্রেডে বেতন-ভাতা পেলেও তা যৌক্তিক নয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও নেই। তাই নতুন পদ সৃজনের ক্ষেত্রে আগের বেতন স্কেল ধরা হচ্ছে।

পুলিশে একই পদে দুই রকমের বেতন

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশে ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেন। তারপর থেকেই পুলিশের তরফ থেকে আবেদন আসতে থাকে। তাতে অন্যান্য পদের সঙ্গে ইন্সপেক্টর, এসআই ও সার্জেন্ট পদ সৃষ্টিরও প্রস্তাব আসে। ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব প্রস্তাব পাঠানোর পর স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইন্সপেক্টরদের জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী ১১০০০-২০৩৭০ টাকা এবং এসআই ও সার্জেন্টদের দশম গ্রেড অনুযায়ী ৮০০০-১৬৫৪০ টাকার স্কেল প্রস্তাব করে অনুমোদন চায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। কিন্তু ইন্সপেক্টরদের বেতন দশম গ্রেড (৮০০০-১৬৫৪০) এবং এসআই ও সার্জেন্টদের ১১তম গ্রেড (৬৪০০-১৪২৫২) এর স্কেলে রেখে নতুন পদ সৃজনে সম্মতি দিচ্ছে অর্থ বিভাগ। সে অনুযায়ী সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মোট এক হাজার ২৯৪টি পদের মধ্যে ইন্সপেক্টরের ১৫ এবং এসআই ও সার্জেন্টদের ২৪০টি পদ সৃষ্টি করে তাঁদের বেতন স্কেল একধাপ নামিয়ে দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এর কারণ সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এটি খুবই টেকনিক্যাল বিষয়। নিশ্চয়ই সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন শাখা থেকে এটি করা হয়েছে।'

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন শাখার কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের দাবি ছিল, তাঁদের পদমর্যাদা বাড়ানো হোক। তাই ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপনে ইন্সপেক্টর, এসআই ও সার্জেন্টদের বেতন-ভাতা অপরিবর্তিত রেখে তাঁদের পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় এবং দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চাপ দিয়ে উচ্চতর গ্রেডে বেতন-ভাতাও ভোগ করছেন তাঁরা, যা কখনই অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেনি। তাই ইন্সপেক্টরদের পদমর্যাদা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হলেও অর্থ বিভাগের হিসাবে তাঁদের বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ নম্বর গ্রেডে এবং এসআই ও সার্জেন্টরা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা পেলেও বেতন-ভাতা ১১ নম্বর গ্রেডেই অনুমোদিত রয়েছে। আর নতুন করে এসব পদ সৃজনের ক্ষেত্রে আগের গ্রেডেই বেতন-ভাতা নির্ধারণ করছে অর্থ বিভাগ।

অর্থাৎ এত দিন ধরে পুলিশ বাহিনীতে থাকা ইন্সপেক্টররা জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেডে এবং এসআই ও সার্জেন্টরা দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পেলেও নতুন যেসব ইন্সপেক্টর এবং এসআই ও সার্জেন্ট আসবেন, তাঁরা পূর্বসূরিদের চেয়ে একধাপ নিচের গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। ফলে বাহিনীতে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন সার্জেন্ট, এসআই ও ইন্সপেক্টররা যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়ারা তার চেয়ে একধাপ নিচে বেতন-ভাতা পাবেন, যা পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

পুলিশ সপ্তাহের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী এ বাহিনীতে ৫০ হাজার পদ সৃজনের ঘোষণা দেন। তারপর থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন পদ সৃজন করে জনবল নিয়োগের প্রস্তাব আসতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৫টি ইন্সপেক্টর, ২০০ এসআই এবং ৪০টি সার্জেন্টের পদসহ মোট এক হাজার ২৯৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব পাঠায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব পদের জন্য বেতন কাঠামোর গ্রেড নির্ধারণ করে তা অনুমোদনের জন্য পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তাতে ইন্সপেক্টরদের জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড এবং এসআই ও সার্জেন্টদের দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগ ইন্সপেক্টরদের দশম গ্রেড এবং এসআই ও সার্জেন্টদের ১১তম গ্রেডে রেখে অনুমোদন দিয়ে গত ১১ জুন তা অনুমোদন করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের উপসচিব জিন্নাত আরা স্বাক্ষরিত ওই অনুমোদনপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছালে তা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

http://epaperbangladesh.blogspot.com/

 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি থাকলেও এসআই ও সার্জেন্টদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ব্যাপারে আপত্তি ছিল। তা ছাড়া প্রজ্ঞাপনের আগে ইন্সপেক্টর, এসআই ও সার্জেন্টদের যোগ্যতা, দক্ষতা যাচাই-বাছাই না করে সরাসরি ওপরের শ্রেণিতে সবাইকে বেতন-ভাতা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি)। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে তা উল্টো। প্রভাব খাটিয়ে সার্জেন্ট, এসআই ও ইন্সপেক্টর নিয়োগের ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রেখেছে পুলিশ। এ নিয়ে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ক্ষোভও রয়েছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ, ২৭-৬-১৫

Saturday, May 23, 2015

থানার ওসি নিয়োগ হেডকোয়ার্টারের ৯ দফা নির্দেশনা

থানার ওসি নিয়োগ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে চরম ক্ষোভ : হেডকোয়ার্টারের ৯ দফা নির্দেশনা পুলিশ হেডকোয়ার্টার কর্তৃক ৯ দফা নির্দেশনা মেনে থানার অফিসার ইনচার্জ নিয়োগ করার জন্য পরিপত্র জারি করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে মাঠপুলিশ। এ নির্দেশনা মেনে ওসি নিয়োগ করলে বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শকরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওসি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। 




আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার নির্দেশনায় পরিপত্র নিয়ে মাঠপুলিশে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এ নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত আইজিপির সাথে সাক্ষাৎ করবে বলে জানিয়েছে। : পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পরিপত্র নং ১/২০১৫ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়নসংক্রান্ত পলিসি গ্রুপের সভায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সকল ইউনিটে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, গত ৬ এপ্রিল পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত পুলিশের পলিসি গ্রুপের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক থানার অফিসার ইনচার্জ নিয়োগ বিষয়ে ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করা হলো। প্রথমত, অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগের জন্য পরিদর্শক পদে ন্যূনতম তিন বছর চাকরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিদর্শক হিসেবে দুই বা ততোধিক এবং সমগ্র চাকরিকালে ৪ বা ততোধিক গুরুদ থাকলে ওসি হিসেবে পদায়ন করা যাবে না। তৃতীয়ত, আর্থিক অনিয়ম বা নৈতিক স্খলনজনিত ১টি গুরুদ থাকলেও ওসি হিসেবে পদায়ন করা যাবে না। চতুর্থত, থানায় পদায়নকৃত দুজন পরিদর্শকের মধ্যে সিনিয়রকে অফিসার ইনচার্জ নিয়োগ করতে হবে। পঞ্চমত, একই থানায় দুবার অফিসার ইনচার্জ নিয়োগ করা যাবে না। ষষ্ঠত, বয়স ৫৪ বছর অথবা ওসি হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করে থাকলে (যেটা আগে আসে) থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা যাবে না। সদাচরণ, গণমুখী ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে উৎসাহী পুলিশ পরিদর্শকদের ওসি পদায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অষ্টমত, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উক্ত আদেশের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরআই প্যানেলের মতো অফিসার ইনচার্জ পদায়নের লক্ষ্যে প্যানেল প্রস্তুত করা হবে। ওসি নিয়োগের উপরোক্ত নির্দেশনা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাঠপুলিশ। পুলিশ কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা মনে করেন, এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করলে তারা সবাই কম-বেশি ওসির দায়িত্বপালন থেকে বঞ্চিত হবেন। বিভাগীয় শৃংখলার কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, কোনোভাবেই এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। এ জন্য পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক ডাকা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে দাবিনামা জানানো হবে। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম দিনকালকে জানান, ‘অফিসার ইনচার্জ নিয়োগে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনায় সারাদেশ থেকেই পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমরা দ্রুত অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক করে আইজিপিকে অবহিত করব।’ : পুলিশ সদস্যরা জানান, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৯ জনের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৩৩৩ জন ক্যাডার কর্মকর্তা। বাকি ১ লাখ ৫৩ হাজর ৫৭৩ জন ননক্যাডার। তন্মধ্যে ২ হাজার ৭৯০ জন নিরস্ত্র পরিদর্শক। আর বাকি প্রায় দেড় লাখই এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল। কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হওয়ার পর অনেকেরই বয়স ৫৪ পাড় হয়ে যায়। এ নির্দেশনা কার্যকর হলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কারো পক্ষে জীবনে একবারও অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগলাভের সুযোগ থাকবে না। বিসিএস ক্যাডারে যোগদান করার পরই সিনিয়র তদারকি অফিসার হিসেবে সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সর্বোপরি পুলিশ সুপারদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা থাকায় তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অধস্তনদের গণহারে শাস্তি দিয়ে থাকেন। ক্যাডার ও ননক্যাডার বৈষম্যের কারণে তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব কাজ করায় অনেক ক্ষেত্রেই দন্ডের যথার্থতা যাচাই না করে প্রতিহিংসামূলক বা রাজনৈতিক কারণে হয়ে থাকে। পরিদর্শক থেকে এএসপি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি থাকলেও বিভাগীয় দন্ডের কারণে বিভাগীয় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। ফলে বিসিএস কর্মকর্তারা ওই পদগুলোতে পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ নেন। দন্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ যথার্থতা যাচাই না করে অফিসার ইনচার্জ নিয়োগে দন্ডকে শর্ত করায় পদোন্নতি পাওয়ার মতো বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ওসি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন। 
SOURCE:  DAINIK DINKAL